Translate

Saturday, 11 February 2023

খরগোশ পালন

 #খরগোস_পালন 

৫ থেকে ৭ টি বাচ্চা দেয় একবারে।বছরে ৩ বার।এক বছরে অনেক খরগোস হয়।কলমি লতা,কলা পাতা,ঘাস,সব্জির খোসা ভুট্টা এগুলি খেতে ভালোবাসে।খাবার না থাকলে ডাল,ভাত বিস্কুট কেক সব কিছুই খায়।বিল্ডিং এর ভিতর বেলকুনি বা ছাদেও পালন করতে পারেন।কাঠের গুড়ো দিয়ে দিবেন।২/১ দিন পর পর পরিস্কার করে দিবেন।বাজার থেকে ফেলে দেওয়া শীতকালিন সব্জি অথবা কিনে সব্জি ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন।দুটো খরগোশ এভাবে পালন করতে পারেন।৫/৭ টি বাচ্চা দিবে। যেখানে পাখী বিক্রি হয় ওখানে খরগোস বিক্রি হয়।না পেলে ঢাকা কাঁটাবন এলাকায় সব ধরনের পশু-পাখী বিক্রি হয়।বাদামী বা কালো খরগোশ কিনলে ভালো হয়।সাদাগুলো একটু সৌখিন।অসুখ হলে কম বাঁচে।

খরগোস সম্পকৃত কিছু তথ্যঃখরগোশ অত্যন্ত নিরীহ একটি প্রাণী। দুই থেকে তিন কেজি ওজনসম্পন্ন অধিক উৎপাদনশীল ও দ্রুত বর্ধনশীল খরগোশ পালন বেশ লাভজনক। অল্প পুঁজি ও পরিশ্রমে খরগোশ পালন করা যায়। খরগোশের মাংস অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন ও চামড়া মূল্যবান পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। শিশুদের কাছে খরগোশ খুবই পছন্দের একটি পোষা প্রাণী। বেকার তরুণ-তরুণী অল্প জায়গা ও মূলধনে এ খাত থেকে ভালো টাকা উপার্জন করতে পারেন। খরগোশ অত্যন্ত নিরীহ ও শান্ত প্রাণী। এটি পালন বেশ সহজ ও লাভজনক। কম জায়গা ও কম মূলধনের জন্য এটি হতে পারে একটি লাভজনক ব্যবসা। ছয় মাস বয়সে খরগোশ বাচ্চা দেওয়া শুরু করে। প্রতিবারে এরা ২ থেকে ৮টি বাচ্চা দেয় এবং বছরে ৪ থেকে ৬ বার বাচ্চা দেয়। তিন মাস বয়সে একটি খরগোশের ওজন ২ থেকে আড়াই কেজি হয়ে থাকে। এটি একটি উৎপাদনশীল ও দ্রুত বর্ধনশীল প্রাণী। খরগোশ তৃণভোজী প্রাণী। এদের খাদ্য সহজলভ্য। অল্প পরিমাণের খাদ্য এদের চাহিদা পূরণ করে। খরগোশের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এদের গোশতে চর্বি ও কোলেস্টরলের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশ কম। খরগোশের মাংসে অন্য মাংসের চেয়ে খাদ্যমান অনেক বেশি। আমাদের শরীরে প্রোটিনের অভাব মেটাতে খরগোশের মাংস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।#সরকার_ফার্মস

খরগোশ পালনে প্রথমেই জেনে নেয়া প্রয়োজন এটি পালনের করণীয় সম্পর্কে। এদের নিরাপদে বাসস্থান, খাদ্য, প্রজনন প্রক্রিয়া, রোগব্যাধি সম্পর্কে ধারণা নিয়েই খরগোশ পালনে অগ্রসর হওয়া ভালো। খরগোশ পালন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাছাড়া খরগোশ পালন সম্পর্কে বেশ কয়েকটি বই বেরিয়েছে।প্রয়োজনে বইগুলো সংগ্রহ করলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। একজোড়া পূর্ণবয়স্ক খরগোশ কেনা যাবে ৪০০-১০০০ টাকায়। প্রতি মাসে এরা বাচ্চা দিতে পারে। তবে বছরে ৮ বারের বেশি বাচ্চা নেওয়া উচিত নয়। প্রতিবার এরা ২ থেকে ৮টি বাচ্চা দেয়। এই হিসেবে বছরে একজোড়া খরগোশ থেকে গড়ে ৩২ থেকে ৪০টি খরগোশ হতে পারে। পাশাপাশি ৩ মাস অন্তর অন্তর এরা পূর্ণবয়স্ক হয়ে পুনরায় এদের থেকেই আবার বাচ্চা জন্ম নেয় এর ফলে পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা রাখতে হয়। গড় হিসেবে দেখা গেছে এক হাজার টাকার একজোড়া ছয়মাস বয়সী বাচ্চাকিনে বছরে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। মাংস হিসেবে এটি যথেষ্ট চাহিদাসম্পন্ন। বিদেশে এর মাংস ও চামড়া রপ্তানি হয়।

গরমের দরুন খরগোশরা দিনের বেলায় খাবার নেয় না। কিন্তু রাত্রিবেলা ওরা সক্রিয় থাকে। তাই রাত্রিবেলা দেওয়া সবুজ খাবার ওরা নষ্ট না করেই খেয়ে নেয়। এই জন্য ঘনীভূত খাদ্য সক্কালবেলা দেওয়া উচিত্‌।ঘনীভূত খাদ্য পেলেটের আকারে দেওয়া যায়। যদি পেলেট খাবার পাওয়া না যায়, তবে ঘনীভূত খাদ্য জলের সাথে মিলিয়ে ছোট ছোট বলের আকার করে দেওয়া যায়।এক কেজি ওজনের একটি খরগোশকে দিনে ৪০গ্রাম ঘনীভূত খাদ্য এবং ৪০গ্রাম সবুজ খাদ্য দেওয়া উচিত্‌।কচি ঘাস, লতা-পাতা, শস্য দানা, গাজর, মূলা, শশা, মিষ্টি আলু, খড়কুটো, তরকারির ফেলনা অংশ, গম, কুড়া, ভুসি, খৈল, সয়াবিন, দুধ, পাউরুটি, ছোলা ইত্যাদি খরগোশের খাবার। ঘাস, শাক ইত্যাদি সব সময় শুকনা বা ঝকঝকে অবস্থায় দিতে হবে। ভেজানো গম বা ছোলা অল্প সিদ্ধ করে দেয়া যেতে পারে। এর সাথে ভুসি মিশিয়ে দিলে আরো ভালো হয়।#SARKER_FARMS

সতর্কতাঃ খরগোশ বাচ্চা প্রদানের পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রসবকৃত বাচ্চাগুলো চলাফেরা করতে পারে। বাচ্চা প্রসবের সময় এরা অবশ্য নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। কারণ বেজি, নেড়ি কুকুড়, বিড়াল, সাপ এদের জাতশত্রু। এসব প্রাণী যাতে এদের ক্ষতি করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

প্রশিক্ষণ নিলে আরও ভাল হয়। খরগোশ পালনের ক্ষেত্রে যারা খরগোশ পালন করে তাদের কাছ থেকে খরগোশ পালনের বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। এছাড়া খরগোশ পালন সংক্রান্ত কোন তথ্য জানতে হলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে পশু কর্মকর্তা অথবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্ধারিত ফি এর বিনিময়ে পশু পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। খরগোশের মাংস অনেক সুস্বাদু এবং কম কোলেস্টেরল যুক্ত হওয়ায় এর চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। এছাড়া খরগোশ নিরীহ ও জনপ্রিয় প্রাণী যা অনায়াসে খাঁচায় পালন করা যায়। খরগোশের চামড়া, পশম, মাংস এবং খরগোশের বাচ্চা বিক্রি করে বাড়তি আয় করা সম্ভব পূর্ণকালীন এমনকি খন্ডকালীন পেশা হিসেবেও খরগোশ পালন উত্তম হতে পারে ।

No comments:

Post a Comment

মাছের খাদ্য প্রস্তুত করবেন যেভাবে দেখে নিন

 #মাছের_খাদ্য মাছের সম্পূরক খাদ্য ও সুষম খাদ্য রেসিপি (বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে)- মাছ চাষের জন্য প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপশি ভালো মানের সম্পূরক ...