আমাদের দেশে প্রায় বার মাস কাগজি লেবু পাওয়া যায়। লেবু দিয়ে শরবত তৈরি করা যায় এবং লেবু সালাদের সাথে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া লেবু দিয়ে আচার তৈরি করা যায়। কিছু কিছু খাবারে টক স্বাদ আনতে লেবু ব্যবহার করা যায়। লেবু খুবই জনপ্রিয় তাই সব সময় এর চাহিদা থাকে। লেবুর চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয় করাও সম্ভব। লেবু ও সবজি যেন একে অপরের পরিপূরক। প্রায় সকল প্রকারের সবজিতে লেবু খা্ওয়া যায়। লেবু খাবারের রুচি বৃদ্ধি করে এবং খাবারে আনে ভিন্ন স্বাদ। আমাদের দেশে বিভিন্ন ফলমূলের মধ্যে লেবু অন্যতম। লেবু টক জাতীয় ফল। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই লেবুর চাষ হয়।লেবুর চোছা প্রাকৃতিক হজমী হিসেবে কাজ করে।খাবারে রুচি ফিরিয়ে আনে।
পুষ্টিগুণ:লেবুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। এছাড়াও লেবুর রস মধুর সাথে অথবা লবণের সাথে মিশিয়ে পান করলে ঠান্ডা ও সর্দি কাশি সারে।চায়না লেবুর রস ও চোছা ৮০% ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।উচ্চ রক্তচাপ কমায়।লেবু ভিটামিন ‘সি’তে ভরা। অতিপরিচিত এই লেবুর আছে অনন্য সব রোগ প্রতিরোধী গুণ।তাই খাবার শেষে লেবুর খোসা ফেলে না দিয়ে আমরা ব্যাবহার করতে পারি নিত্য দিনের নানা কাজে।লেবুর খোসায় রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, পেকটিন, ফাইবার এবং মিনারেলস যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আসুন জেনে নিই লেবুর রসের পাশাপাশি লেবুর খোসার কার্যকারিতা সম্পর্কে- "পোস্ট টি শেয়ার করে নিজেদের প্রোফাইলে রাখুন" আমাদের পোস্ট গুলো পেতে পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।
ক্যান্সার প্রতিরোধকঃ মরণ রোগ ক্যান্সার। আর এ মারণ রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে লেবুর খোসা। চিকিৎসকরা জানান, চায়ের সঙ্গে লেবুর খোসা মিশিয়ে খেলে আমাদের শরীরের ক্যান্সার কোষ তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সানবার্ন প্রতিরোধঃ সৌন্দর্যের দিক থেকে লেবুর খোসা সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করলে ত্বকে সানবার্ন প্রতিরোধ করা যায়।#সরকার_ফার্মস
ভিটামিন-সিঃ লেবুর খোসায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-সি থাকে। যা আমাদের হাড়কে আরও মজবুত করতে সাহায্য করে। হাড়ের বিভিন্ন অসুখ যেমন, পলিআর্থারাইটিস, অস্টিওপরোসিস এবং বিভিন্ন প্রকার আর্থারাইটিস প্রতিরোধ করে।
ওজন কমায়ঃ অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য লেবুর খোসার উপকারিতা অনেক। লেবু গরম পানির সাথে মিশিয়ে পান করতে হবে।
স্ট্রেস কমায়ঃ শরীর থেকে স্ট্রেসও কমায় লেবুর খোসা।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃলেবুর খোসা আামদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বিভিন্ন হৃদরোগ যেমন স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাঃ হজম শক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় লেবুর খোসা।
চিনি ঝরঝরে রাখতেঃরান্নাঘরের চিনির কৌটায় রেখে দিতে পারেন এক টুকরো লেবুর খোসা। এর ফলে চিনি থাকবে একেবারে ঝরঝরে।
মুখের দুর্গন্ধ এড়াতেঃমুখের দুর্গন্ধ দূর করতে জুড়ি নেই লেবু বা কমলার খোসার। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এবং কিছুক্ষণ পরপর সারাদিন লেবু বা কমলার খোসা চিবাতে পারেন। এতে যেমন আপনার মাড়ি ভালো থাকবে তেমনি নিঃশ্বাসে থাকবে প্রাকৃতিক সজীবতা।
পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতেঃ আলমারি বা ওয়ারড্রবকে কীটপতঙ্গ থেকে মুক্ত রাখতেও লেবুর খোসার জুড়ি নেই। লেবুর শুকনো খোসা শুকিয়ে একটি ছোটো পলিপ্যাকে নিয়ে মোজা কিংবা অন্তর্বাসের ড্রয়ারে রেখে দিন। দুর্গন্ধ তো দূর হবেই, সাথে সাথে আপনার পোশাক হবে দারুণ সুরভিত।
ফ্রিজ সতেজ রাখতেঃ ফ্রিজের ভেতরে দুর্গন্ধ এড়াতে রেখে দিতে পারেন দুই এক টুকরো লেবুর খোসা। এতে ফ্রিজ থাকবে লেবুর সুগন্ধময়।
ডাস্টবিনে দুর্গন্ধ এড়াতেঃ দুর্গন্ধময় ময়লা-আবর্জনায় লেবুর খোসা নিক্ষেপ করুন। লেবুর খোষা দুর্গন্ধ শুষে নিবে।
চায়ের কেটলি বা কফি পট পরিষ্কার করতেঃজমে থাকা চা কিংবা কফির পট পরিষ্কার করতে পারেন লেবুর খোসা দিয়ে। এক্ষেত্রে কেটলিতে পানি নিয়ে লেবুর খোসা দিয়ে কিছুক্ষণ সেদ্ধ করতে হবে। এরপর ময়লা জায়গা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
কাটিং বোর্ড পরিষ্কার করতেঃকাটিং বোর্ডের সব ময়লা দাগ পরিষ্কার করতে লেবুর খোসা কেটে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। দেখবেন একেবারে ঝকঝকে হয়ে গেছে।
মাইক্রোওয়েভ পরিষ্কার করতেঃমাইক্রোওয়েভের তেল চিটচিটে হলে বাটিতে পানি দিয়ে লেবুর খোসা ছেড়ে গরম করতে হবে। এরপর পানি দিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এতেই মাইক্রোওয়েভ ঝকঝকে হয়ে যাবে।
ত্বক উজ্জ্বল করতেঃত্বকে মেসেজ করে ধুয়ে ফেললে নরম, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া যায়।
বয়সের দাগ দূর করতেঃ মানুষের যখন বয়স বাড়ে তখন শরীরে বয়সের দাগ পড়ে যায়। এই দাগের ওপর লেবুর খোসা ঘসলে তা উঠে যায়।
স্কিন টনিক হিসাবেঃ লেবুর খোসা ত্বকে অল্প ঘষে ধুয়ে ফেললে এটি ত্বকের স্কিন টনিক হিসাবে কাজ করবে।
লেবুর জাত:আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের লেবুর জাত রয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু উচ্চফলনশীল লেবুর জাত হচ্ছে, থাই লেবু,বারি লেবু-১, বারি লেবু-২, বারি লেবু-৩, বাউ কাগজী লেবু-১, বাউ লেবু-২ ইত্যাদি।বর্তমানে বারমাসই উচ্চ ফলনশীল থাই ও চায়না লেবু বানিজ্যিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ সকল জাতের লেবু গাছ থেকে বেশি ফল পাওয়া যায় জুলাই-আগষ্ট মাসে।
চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটি:মার্চ অক্টোবর মাসে লেবুর চারা রোপণ করতে হবে। প্রায় সব ধরণের মাটিতে লেবুর চাষ করা যায়। কিন্তু অম্ল যুক্ত দো-আঁশ মাটি বেশি উপযোগী। এ মাটিতে লেবু উৎপাদন ভাল হয়।তবে লেবুর গাছ বার মাসই রোপন করা য়ায়।
চারা উৎপাদন:লেবুর চারা বীজ হতে উৎপন্ন হয়। এছাড়াও কলম থেকে চারা উৎপাদন করেও চাষাবাদ করা যায়।
চারা রোপণ পদ্ধতি:
১. গুটি কলম ও কাটিং তৈরি করে মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত লেবুর চারা রোপণ করা হয়।
২. চারা রোপণের সময় একটা চারা হতে আর একটা চারার দূরত্ব কম পক্ষে স্কয়ার ৫-৭ ফিট হতে হবে।
৩.বীজের চারা ৮-১০ মাসের চারা রোপণ করলে ভাল হয়।
সার প্রয়োগ:ভালো ফলন পেতে হলে জৈব সারের বিকল্প নেই বললেই চলে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার দেওয়া উচিত। জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকে।এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে।
সেচ: শুকনা মৌসুমে ২-৩ বার সেচ দিতে হবে।
রোগবালাই:
১. প্রধান প্রধান শেকড়ের মধ্যে লেবুর পোকা ও ফলমাছি কাঁচা ফল থেকে রস শুষে নেয়।
২. ফলমাছি ফলের ভেতরের অংশ ক্ষতি করে।
প্রতিকার:এসব পোকা দমনে বিভিন্ন ধরণের কীটনাশক পাওয়া যায়। এতে যদি পোকা দমন নামে ২-৩ বার সেচ দিতে হবে। এবং বর্ষার সময় গাছের গোড়ায় পানি জমতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।যদি না হয় তাহলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সাথে বা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
চাষের সময় পরিচর্যা:#SARKER_FARMS
১. একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছের দূরত্ব স্কয়ার ৫-৭ ফিট হতে হবে।
২. শক্ত মাটি গাছের চারদিকে সরিয়ে দিতে হবে।
৩. অতিরিক্ত এবং শুষ্ক ডাল ছাঁটাই করতে হবে।
৪. নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
ফল সংগ্রহ:একটা পূর্ণ বয়স্ক থাই লেবু গাছ থেকে বছরে কম পক্ষে ২০০০-৪০০০টি লেবু পাওয়া যেতে পারে। লেবু পুষ্ট হলে লেবু গায়ে তেলতেলে ভাব দেখা দেয়। ফল কিছুটা হালকা হলুদ রঙ ধারণ করলে ভাদ্র মাসের শুরু থেকে আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়।এসময় লেবু সবচেয়ে বেশি থাকে গাছে।তবে থাই লেবু কম বেশি বারমাসই গাছে পাওয়া যায়।
No comments:
Post a Comment